জনসমর্থন হারানোর আশঙ্কায় সুর পাল্টালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
তিনি সংবেদনশীল ভাবে নিজেকে তুলে ধরার কৌশল নিয়েছেন।
লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের ফলে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমদিকে কিছুটা ক্ষুব্ধহয়েগেলেও আস্তে আস্তে তার সুর বদলাতেশুরু করেছেন রাজ্য রাজনীতিতে।
এক সময় তিনি সিপিএম কর্মী–সমর্থকদের উপর যে অপমান ও অত্যাচার চালিয়েছিলেন এখন তার পুরোপুরি অন্যরূপ। বিগত আট বছর পর তার মুখে শোনা গেল, “পার্টি অফিস প্রতিটি দলের কাছেই তীর্থস্থান, দলীয় পতাকা কর্মীদের কাছে হৃদয়ের সমান। তাই কারো পার্টি অফিস কেউ দখল করবে না। কারো দলীয় পতাকা কেউ সরাবে না এবং সবাইকেই কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।”
পশ্চিমবঙ্গেতৃণমূলকংগ্রেসেরজনসমর্থনহারানোরভয়েচাপেরমুখেপড়েএবারকৌশলবদলাতেচাইছেনরাজ্যেরমুখ্যমন্ত্রীমমতাবন্দোপাধ্যায়।এদিনরাজ্যেরমন্ত্রীএবংদলেরবিধায়কদেরনিয়েবৈঠককরেসকলকেএকথাইবুঝিয়েদেনতৃণমূলসুপ্রিমো।এছাড়াও সদ্য ঘটে যাওয়া নৈহাটির জনসভায় যাওয়ার পথে ভাটপাড়াতে ‘জয় শ্রীরাম‘ ধ্বনি উচ্চারণকে ঘিরে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সে প্রসঙ্গে তিনি তার ফেসবুক পেজে জনসমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে এক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন– “নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের জন্য কোন রাজনৈতিক দলের কোন স্লোগানে আমার কোন অসুবিধা নেই, সব দলেরই রাজনৈতিক স্লোগান আছে। আমার দলের, ‘জয় হিন্দ‘, ‘বন্দেমাতারাম‘ আছে, বামেদের আছে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ‘। অন্যদেরও আছে একে অপরের শ্রদ্ধা করি আমরা। কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম‘ ধর্মীয় এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এগুলো সঙ্গে জড়িত মানুষের আবেগকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় স্লোগানকে দলের স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি। জোর করে রাজনীতির সঙ্গে ধর্মকে মিশিয়ে দিচ্ছে।” তার ফেসবুকের এই লেখা থেকে স্পষ্ট যে তিনি সংবেদনশীল ভাবে নিজেকে তুলে ধরার কৌশল নিয়েছেন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো এখন যে কথাগুলি জনসমর্থন পাওয়ার আশায় প্রচার করার চেষ্টা করছেন, সরকারে আসার পর থেকেই তাদের ভাবমূর্তি ছিল পুরোপুরি অন্যরকম। বামফ্রন্টের কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সুষ্ঠুভাবে করতে দেয়নি তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। ‘ইনক্লাব জিন্দাবাদ‘ স্লোগানে বারংবার বাধার সৃষ্টি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। খেজুরি, নন্দীগ্রাম তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
পশ্চিমবঙ্গের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। তিনি বলেছেন, তৃণমূলের নির্বাচনী বিপর্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে অনেক এলাকার সাধারণ মানুষ এবং বামপন্থী কর্মীরা সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও আগামী দিনে কর্মীদেরকে বিজেপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এছাড়াও স্বাধীন ভাবে মানুষের কাছে গিয়ে সংযোগ স্থাপন করার পাশাপাশি সংগঠকদের স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন, রাজ্যে বিজেপি ও তৃণমূল সংগঠনের মধ্যে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাকে উপেক্ষা করেই বামফ্রন্ট কর্মী–সমর্থকদের সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে স্বাধীনভাবে পুনরায় জনসংযোগ স্থাপন করতে হবে এটাই হলো তার সঠিক সময়।